Marquee 📢🔴❗৪৭তম বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দারুল উলূম বালিপাড়া কওমী মাদরাসার বালক/বালিকা শাখার ফলাফল।❗🔴❗ ১৪৪৪-৪৫ হি. = ২০২৩-২৪ ঈ. সনের কওমী মাদরাসা আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ডের অধিনে অনুষ্ঠিত নূরানী, হিফজ ও বালক- বালিকা শাখার কিতাব বিভাগের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ❗🔴❗ বিগত ১৩ বছরের বেফাক পরীক্ষার ফলাফলের এক নজর ❗🔴❗ আসণ্ণ পবিএ মাহে রমজাণ উপলক্ষে নূরানী মুয়াল্লিম ও মুয়াল্লিমা প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২৬ শাবান রমজান থেকে রমজান ১৪৪৪ হি. পর্যন্ত (মুয়াল্লিম) ❗🔴❗ ১৪৪৫-৪৬ হি. = ২০২৪-২৫ ঈ.শিক্ষাবর্ষের বালিপাড়া কওমী মাদ্রাসা ও তার শাখা প্রতিষ্ঠানসমূহের নতুন ও পুরাতন ছাএ / ছাএীদের ভর্তি ভর্তি চলছে ❗🔴❗ হাফেজ ছাত্রদের জন্য সু-খবর ❗🔴❗

গঠনতন্ত্রের


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

গঠনতন্ত্রের স্মারক বিধি

প্রথম সংস্করণঃ এপ্রিল ২০০৭ঈ.
দ্বিতীয় সংস্করণঃ মে ২০১৫ঈ. ও
তৃতীয় সংস্করণঃ নভেম্বর ২০২৩ঈ.

(১) তা’লীম ও তরবিয়্যাত (শিক্ষাদীক্ষা), মক্তব, হিফযখানা, দরসিয়াত (কিতাবখানা), ইলমু তাজবীদ ও ক্বিরাআত
(২) ইফতা
(৩) তাবলীগ ও প্রচার
(৪) তা’লীফ ও তাছনীফ (বই পুস্তক প্রণয়ন)
(৫) শিক্ষক প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প কারিগরী প্রশিক্ষণ ও হজ্জ প্রশিক্ষণ ইত্যাদি
(৬) গবেষণা
(৭) কুতুবখানা
(৮) অর্থ
(৯) মাতবাখ (বোর্ডিং)
(১০) প্রকাশনা।

১। সাধারণ তহবিল ঃ এ তহবিলে এককালীন দান, মাসিক চাঁদা, বার্ষিক চাঁদা, ভর্তি ফি, ভাড়া ও মাদরাসার নিস্কৃয় মালামাল বিক্রয়ের অর্থ জমা হবে। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির আয় ও বিক্রয় মূল্যও এ তহবিলে জমা হবে।

২। গোরাবা তহবিলঃ এ তহবিলে কুরবানীর চামড়ার আয়, যাকাৎ, ফিতরা, ছদাকা ও মান্নতের অর্থ জমা হবে।

৩। এতীম তহবিলঃ এ তহবিলে এতমিদের জন্য যে সকল অর্থ আসবে তা শুধু এতীমদের খরচের জন্য জমা হবে।

৪। কুতুবখানা তহবিলঃ এ তহবিলে কুতুবখানা বাবদ প্রাপ্ত অর্থ জমা হবে।

৫। তা’মীর তহবিলঃ মাদরাসার গৃহ নির্মাণ ও মেরামত বাবদ প্রাপ্ত অর্থ জমা হবে।

৬। তাবলীগ ওপ্রচার তহবিলঃ এই তহবিলে দ্বীন ইসলাম প্রচার ও দ্বীনি পুস্তক পুস্তিকা এবং ইশতিহার, পোষ্টার ছাপানোর-উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত অর্থ জমা হবে।

৭। কবরস্থান তহবিলঃ এ তহবিলে কবরস্থানের জন্য প্রাপ্ত অর্থ জমা হবে।

দারুল উলূম বালিপাড়া কওমী মাদরাসার সদস্যগণের নিম্ন যোগ্যতা ও গুণাবলী থাকতে হবে।
(১) প্রাপ্ত বয়স (পুরুষ)
(২) দ্বীনদার মুসলমান
(৩) মাদরাসার উদ্দেশ্য ও আদর্শের সাথে পূর্ণ ঐক্যমত পোষণ করা এবং এর প্রতি আস্থাবান থাকা।
(৪) মাদরাসার তা’লীম ও তরবিয়তের প্রতি আগ্রহী হওয়া
(৫) মাদরাসার মূলনীতিসমূহের পাবন্দ হওয়া। যার দ্বারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে মাদরাসার ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশংকা থাকে এমন ব্যক্তিকে কখনো মাদরাসার সদস্য মনোনীত করা যাবে না।

মাদরাসার মজলিসে শুরা তথা উপদেষ্টা পরিষদ এক বা একাধিক বুযুর্গাণে দ্বীনকে মাদরাসার পৃষ্ঠপোষক মনোনীত করতে পারবেন। যাঁকে বাযাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষক মনোনীত করা হবে, তাঁর কিংবা তাঁদের মধ্যে অবশ্যই নি¤েœাক্ত গুণাবলী থাকতে হবে।
ক) দ্বীনি ইলমে পারদর্শী হওয়া
(খ) তাকওয়া ও বুযুর্গীর দিক হতে সুখ্যাতি সম্পন্ন।
গ) হক্কানী উলামা কর্তৃক স্বীকৃত বুযুর্গ।
ঘ) দূরদর্শীতা ও ব্যক্তিত্বে সুখ্যাতি সম্পন্ন হতে হবে।

মাদরাসার তা’লীম ও তরবিয়্যতের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে মজলিসে শুরা কর্তৃক একটি শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যা নিম্নরুপ :-

(ক) মাদরাসা ১০ম মানের (শরহে বেকায়া) স্তরের হলে ৫সদস্য বিশিষ্ট আর যদি ১০ম মানের উর্ধ্বে হয় তাহলে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যাবে।
মাদরাসার অভ্যন্তরীন ও প্রচলিত মাদরাসার দাপ্তরিক কার্যাদি আঞ্জাম দেয়ার লক্ষ্যে গঠনতন্ত্রের স্বারক নং-৩৪ এর স্মারক বিধির ধারা অনুযায়ী ইহার দুইটি স্তর হবে যথা ঃ মজলিসে ইলমি (আম) ও মজলিসে ইলমি (খাছ)।
মজলিসে ইলমীতে অত্র মাদরাসার সকল আসাতিজায়েকেরাম সদস্য থাকবেন।

(খ) মজলিসে ইলমী খাছ ঃ মাদরাসার মুহতামিম, নায়েবে মুহতামিম ও নাজেম সহ মাদরাসার বিভাগীয় প্রধানগণ অর্থাৎ নূরাণী প্রধান, হিফজ প্রধান, জামাত বিভাগের প্রতিনিধি, সাধারণ বিভাগের প্রতিনিধিগণ সদস্য থাকবেন।
মজলিসে ইলমী আম এর কাজ ঃ মাদরাসার অভ্যন্তরীন সকল ধরণের কার্যাবলী যেমন-বর্তমান প্রচলিত দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ ইত্যাদির জটিলতা সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এবং উহাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে মজলিসে খাস এর নিকট তুলে ধরবে।
মজলিসে ইলমী খাসের কাজ ঃ গঠনতন্ত্রের নীতিতে থেকে আমের পেশকৃত সমস্যাদি সমাধান করবেন যেমন ছাত্রাবাস বন্টন, দপ্তর বন্টন, অভ্যন্তরীন আইন শৃংখলা রক্ষা করা, দরসরুটিন, পরীক্ষা সংক্রান্ত ইত্যাদি এবং সমাধানকৃত কার্যাবলী অনুমোদনের জন্য পরবর্তী নিকটতম আমেলায় পেশ করবেন।

(গ) ১০ম মানের মাদরাসার জন্যঃ
১। তাজবীদ, ২। আরবী ভাষা, ৩। মাতৃভাষা, ৪। ইংরেজী ভাষা, ৫। উর্দুভাষা, ৬। ফার্সী ভাষা, ৭। আরবী নাহব ওছরফ, ৮। ফিক্হ ৯।তাজকীয়াহ ও আখলাক, ১০। ইতিহাস ও ভ’গোল, ১১। গণিত বিষয় সমূহে পারদর্শী এবং পাঠদান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এ পরিষদ গঠিত হবে।
ঘ) ১০ম মান- ঊর্ধ্বের মাদরাসার জন্য ক-এ বর্ণিত বিষয়সমূহসহ তাফসীর, হাদীস, আকাইদ ও কালাম, ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইসলামী দর্শন ও মনোবিজ্ঞান, ফারায়েজ, জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে পারদর্শী ও পাঠদান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমপর্যায় থেকে সাত জন সদস্যের সমন্বয়ে শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হবে।
ঙ) এই মাদরাসা অথবা বাহির থেকে অর্থাৎ যেখানেই উক্ত মানের যোগ্য ব্যক্তি পাওয়া যাবে সেখান থেকেই সংগ্রহ করে পরিষদের অন্তভর্’ক্ত করতে পারবে।
চ) তা’লীম ও তরবিয়তের মান উন্নয়নের সুপারিশ, সিলেবাস সংক্রান্ত সুপারিশ এবং পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে মতামত পেশ করাই হবে এই পরিষদের দায়িত্ব।
ছ) মাদরাসার মুহতামিম পদাধিকার বলে এ পরিষদের আহবায়ক হবেন।

(১) মজলিসে শুরা (উপদেষ্টা পরিষদ),
(২) মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)
(৩) মজলিসে ইলমী (শিক্ষা-দীক্ষা বিষয়ক পরিষদ)

মাদ্রাসার মজলিসে শুরা (উপদেষ্টা পরিষদ) নামে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী একটি পরিষদ থাকবে। মাদরাসার আইন-শৃংখলা, প্রাপ্তি ও পরিশোধ এবং মাদরাসার সকল বিভাগ উল্লেখিত পরিষদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

ক) সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে মাদরাসা প্রকল্পের সকল বিভাগ পরিচালনার উদ্দেশ্যে আইন প্রনয়ণ করা, আইন বতিল করা কিংবা সংস্কার করার অধিকার মজলিসে শুরার থাকবে।

গ) মাদরাসরার আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে বিভিন্ন বিভাগ খোলা কিংবা একাধিক বিভাগকে মিলিয়ে এক করে দেয়া, মাদরাসার বিশেষ স্বার্থে মজলিসে আমেলা, মজলিসে ইলমী ছাড়াও বিভিন্ন স্থায়ী –অস্থায়ী মজলিস গঠন করা, নেছাবে তা’লীম সংশোধন ও সংযোজনের জন্য দ্বীনি শিক্ষায় বিশেষজ্ঞদেও সমন্বয়ে উপ-মজলিস সমূহের সদস্য নির্ধারণ করা, দায়িত্ব এবং ক্ষমতা বন্টন করা ও কার্যকালের সময়সীমা নির্ধারণ করা, প্রয়োজনবোধে কোন বিভাগ কিংবা মজলিসের বিলুপ্তি ঘোষণা করা।

ঘ) কোন মজলিস কর্তৃক যদি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধন হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তাহলে উহার কার্যাবলী বাতির করা কিংবা উক্ত মজলিস ভেঙ্গে দেয়া।

ঙ) নি¤œ পরিষদ সমূহের প্রস্তাবলী ও প্রতিবেদন বিবেচনা করা এবং মঞ্জুর কিংবা না মঞ্জুর করা।

চ) মজলিসে আমেলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করা এবং শেষ ফয়সালা দেয়া।

ছ) মজলিস কর্তৃক পেশকৃত নেছাবে তা’লীমের খসড়া পর্যালোচনা করা ও মঞ্জুরী দেয়া।

জ) মাদরাসার দপ্তরে ইহতিমাম কিংবা দপ্তরে তা’লীমাতে এক সপ্তাহের পূর্বে নোটিশ দিয়ে মাদরাসার যে কোন বিভাগ পরিদর্শন করে মন্তব্য বহিতে মন্তব্যপেশ করার এখতিয়ার মজলিসে শুরার সদস্যগণের থাকবে।

ঝ) মজলিস শুরার উল্লিখিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার হতে এক কিংবা একাধিক দায়িত্ব কোন সদস্য কিংবা কোন নি¤œ পরিষদকে দেয়া।

ঞ) মাদরাসার তহবিল সংরক্ষণ করা, আয় ওব্যয় এর নিয়মতান্ত্রিক হিসাবপত্র রক্ষণার্থে আইন প্রনয়ণ করা।

ট) ওযাক্ফ সম্পত্তিসহ মাদরাসার স্থাবর ও অস্থাবর সমুদয় সম্পত্তির হিফাজত করা, মাদরাসার সম্পত্তি সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রয়োজনবোধে আদালতের আশ্রয় নেয়া এবং এতদ্সংক্রান্ত খরচাদির মঞ্জুরী দেয়া।

ঠ) বার্ষিক বাজেটের মঞ্জুরী দেয়া, হিসাব পত্র অডিট করানো।

ড) বিশেষ অবস্থায় সমস্যাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসার নীতি নির্ধারণ করা।

ঢ) উল্লিখিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার ব্যতীত মাদরাসার উন্নতি, স্থায়ীত্ব, ভিত্তি সুদৃঢ় করা ও উদ্দেশ্য সাধনে সকল প্রকার দায়িত্ব ও এখতিয়ার মজলিসে শুরার থাকবে।

স্মাঃ বিঃ- ৮।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলেম-উলামা, দ্বীনদার পরহেজগার ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে মজলিসে শুরা গঠন করবেন্ মুতাওয়াল্লীসহ মজলিসে শুরার সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫১ পর্যন্ত হতে পারবে। তবে সদস্য সংখ্যা ২৬জনে পৌঁছালে মজলিসে শুরার অস্তিত্ব স্বীকৃত হবে।

স্মাঃ বিঃ-৯।
শুরার শূন্য আসনসমূহ পূরণ করার জন্য শুরার অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যগণের পরস্পর মত বিনিময়ের মাধ্যমে সকলকে ঐক্যমতে পৌঁছার চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে, উপস্থিত সদস্যগণের মৌখিক রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন করে শূন্য আসনসমূহ পূরণ করতে হবে।

স্মাঃ বিঃ- ১০।
মজলিসে শুরার সদস্যগণের দুই তৃতীয়াংশ সর্বজন স্বীকৃত উলামায়ে হক্কানী হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে দুই তৃতীয়াংশ সম্ভবপর না হলে, আলেমে দ্বীন অবশ্যই সংখ্যারিষ্ঠ হতে হবে এবং সকল সদস্যকে তৃতীয় দফায় বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। তদুপরি সদস্য মনোনীত করার বেলায় বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে যেন, মাদরাসার যে কোন একটি বিভাগ মনোনীত সদস্য দ্বারা উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্মাঃ বিঃ-১১।
মাদরাসার মুহতামিম, নায়েবে মুহতামিম ও নাজেমে তা’লীমাত পদাধিকার বলে মজলিসে শুরা ও মজলিসে আমেলার সদস্য থাকবেন। এতদ্ব্যতীত শিক্ষকগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের নির্বাচিত দুইজন শিক্ষক মজলিসে শুরার সদস্য থাকবেন। উল্লিখিত সদস্য দুইজন তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ব্যতীত অপর সকল ব্যাপারে মত প্রকাশ করা ও রায় দেয়ার অধিকার অপরাপর সদস্যগণের ন্যায় তাদেরও থাকবে।

স্মাঃ বিঃ-১২।
মজলিসে শুরার সদস্যগণ এমন একজন আলেমে দ্বীনকে মজলিসে শুরার সভাপতি নির্বাচন করবেন যিনি ইলম আমল, তাকওয়া ও পরহেজগারীর দিক দিয়ে সকলের শ্রদ্ধেয় হন এবং মাদরাসার সার্বিক উন্নতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকেন, শুরার সদস্যগণ যদি এমন কোন ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ঐক্যমতে পৌঁছতে সক্ষম না হন, তবে শুরার কোন স্থায়ী সভাপতি থাকবে না। অধিবেশন চলাকালে কোন আলেমে দ্বীনকে সভার কার্য পরিচালনার জন্য সভার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।

স্মাঃ বিঃ -১৩।
মাদরাসার মুহতামিম পাদাধিকার বলে মজলিস শুরা ও মজলিসে আমেলার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

মজলিসে শুরার সদস্য পদ হতে নি¤œ বর্ণিত অবস্থায় অব্যাহতি প্রাপ্ত বিবেচিত হবে।

ক) কোন সদস্যের মৃত্যুবরণ করা।

খ) কোন সদস্য কর্তৃক পদত্যাগ পত্র পেশ করা এবং শুরার অধিবেশনে তা গৃহীত হওয়া।

গ) পূর্ব অবহিত করণ ব্যতীত কোন সদস্যের পর পর তিন অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকার কারণে শুরা কর্তৃক অব্যাহতি দানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়া।

ঘ) কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হলে শুরা তাকে অব্যাহতি দিতে পারবেন। তবে তার অব্যাহতির বিষয়টি এজেন্ডায় উল্লেখ থাকতে হবে এবং তাকে শুরার অধিবেশনে উপস্থিত থেকে ছাফাই পেশ করার সুযোগ দান করতে হবে। ছাফাই পেশ করার পর তার সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি অধিবেশনে ইপস্থিত থাকতে পারবেন না। এজেন্ডায় তাকে অবহিত করার পরও যদি উক্ত অধিবেশনে যোগদান করে ছাফাই পেশ করা হতে বিরত থাকেন, তবে শুরা তাকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

স্মাঃ বিঃ-১৫।
স্বাভাবিক অবস্থায় কমপক্ষে বৎসরে একবার মজলিসে শুরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জরুরী ও সংকটকালীন অধিবেশন যে কোন সময় আহবান করা যাবে।

স্মাঃ বিঃ-১৬।
সাধারণ অধিবেশনের নোটিশ ১০দিন পূর্বে সদস্যগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। জরুরী অধিবেশনের নোটিশ এক সপ্তাহ পূর্বে পৌছালে হবে।

স্মাঃ বিঃ-১৭।
নিম্ন বর্ণিত অবস্থায় মজলিসে শুরার জরুরী অধিবেশন আহবান করা যেতে পারে ঃ
ক) বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মজলিসে শুরার অধিবেশনে জরুরী অধিবেশন আহবান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে।
খ) মুহতামিম কিংবা মজলিসে শুরার স্থায়ী সভাপতি জরুরী সভা আহবান করার প্রয়োজন বলে মনে করলে।
গ) মজলিসে আমেলার সভায় শুরার জরুরী সভার আহবান করার প্রস্তাব গৃহীত হলে।

স্মাঃ বিঃ-১৮।
মজলিসে শুরার সভাপতির নি¤œ বর্ণিত দায়িত্ব ও অধিকার থাকবে ঃ

ক) অধিবেশনে দফাওয়ারী এজেন্ডায় আলোচনার অনুমতি প্রদান করা।
খ) বিশেষ প্রয়োজনে দফাওয়ারী আলোচনার ব্যতিক্রম করা।
গ) সভার শৃংখলা রক্ষা করা এবং সদস্যদের বে-আইনী আলোচনা কিংবা অশোভনীয় আলোচনা হতে বিরত রাখা এবং আদেশ অমান্যকারীকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করা।
ঘ) আল্লাহ না করুন, সভায় মতানৈক্য চরম আকার ধারণ করলে সভা মুলতবী ঘোষণা দেয়া।
ঙ) এজেন্ডা বহিভর্’ত কোন জরুরী বিষয়ে আলোচনরা উত্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দিলে তা এজেন্ডাভুক্ত করা।
চ) আলোচনা দীর্ঘ করার প্রয়োজন দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের পরেও সভা পরিচালনার ঘোষণা করা।
ছ) কোন বিষয় মতানৈক্য দেখা দিলে উপস্থিত সদস্যদের মৌখিক রায় গ্রহণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুযায়ী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা, উভয় পক্ষে সমসংখ্যক রায় হলে সভাপতির ফয়সালাই চূড়ান্ত বলে পরিগণিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে যদি সভাপতি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী মনে করেন, তবে তিনি সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করে সভা মুলতবী ঘোষণা করতে পারবেন।

স্মাঃ বিঃ১৯।
শুরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কোরাম হিসেবে এক পঞ্চমাংশ সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক বলে পরিগণিত হবে। কোরাম পূর্ণ না হলে অধিবেশন মুলতবী হয়ে যাবে।

মুলতবী অধিবেশন পূনরায় অনুস্ঠিতা হতে ১৯নং দফা অনুযায়ী কোরাম হওয়া আবশ্যক। তবে উক্ত অধিবেশনের জন্য যথারীতি নোটিশ দিতে হবে এবং নোটিশে মুলতবী অধিবেশন কথাটি উল্লেখ থাকতে হবে।

স্মাঃ বিঃ- ২১।
মজলিসে শুরা কিংবা নি¤œতর কোন মজলিসের অধিবেশনে শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধিবিধান ছাড়া অপরাপর আলোচ্য বিষয়ে উপস্থিত সভ্যগন ঐক্যমত্যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়া বাঞ্ছনীয। কোন বিষয়ে উপস্থিত সদস্যগণের ঐক্যমত্যে পৌঁছা সম্ভবপর না হলে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের মতানুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। রায়ের বেলায় উভয় পক্ষের সমসংখ্যক রায় হলে সভাপতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিবেচিত হবে।

স্মাঃ বিঃ-২২।
সভার তারিখ ও নির্ধারিত সময় কোরাম সংখ্যক সদস্য উপস্থিত হলে যথাসময়ে সভা আরম্ভ হবে। সভা কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর কোন সদস্য উপস্থিত হলে তার উপস্থিতির পূর্বে যে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে সব বিষয় পূণরায় আলোচনায় আসবে না এবং তার কোন আপত্তিও গৃহীত হবে না ।

স্মাঃ বিঃ-২৩।
সভা চলাকালে কিংবা সভার এক দুইদিন পূর্বে ছাত্র-শিক্ষক কিংবা কোন কর্মচারী বিশেষ কোন বিষয় আলোচনার জন্য দরখাস্ত করলে তা গৃহীত হবে না। তবে যদি মাদরাসার পক্ষে জরুরী বলে যদি বিবেচিত হয়, তাহলে সভাপতির অনুমতিক্রমে যে কোনো সদস্য প্রস্তাবাকারে উত্থাপন করতে পারবেন।

স্মাঃ বিঃ-২৪।
মজলিসে শুরাসহ অপরাপর মজলিস সমূহের কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধকরণ বহিতে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সভার শেষে উহাতে সভাপতি স্বাক্ষর করবেন।

স্মাঃ বিঃ-২৫।
মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বিশেষ কোন কারণ কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি উদ্ভবের ফলে শুরার কোন সিদ্ধান্ত কার্যকরী করতে গেলে যদি মাদরাসার ক্ষতি সাধিত হয় কিংবা স্বার্থের হানী ঘটার আশংকা দেখা দেয়, তবে এমন পরিস্থিতিতে মজলিসে আমেলার সুপারিশক্রমে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত শুরার সিদ্ধান্ত মুলতবী রাখা চলবে।

স্মাঃ বিঃ-২৬।
মজলিসে শুরা কিংবা মজলিসে আমেলার সভায় গৃহীত কোন বিষয়বস্তুর উপর মাদরাসার স্বার্থে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব হলে, যে মজলিসে গৃহীত সিদ্ধান্তের উপর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে সে মজলিসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে প্রস্তাবকারী সদস্যদের নামসহ উল্লেখ থাকতে হবে।

স্মাঃ বিঃ-২৭।
মজলিসে শুরা কিংবা আমেলার অধিবেশনে অনুপস্থিত সদস্যগণের লিখিত বা মৌখিক কোন মতামতই গৃহীত হবে না। কেবলমাত্র উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের মতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

স্মাঃ বিঃ-২৮।
শুরা এবং আমেলার সদস্যগণ সাধারণ কিংবা জরুরী অধিবেশনের সময় সভার কার্য আরম্ভ হওয়ার পূর্বে কিংবা অধিবেশন চলাকালে মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষা ও আইন-শৃংখলার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন। অবশ্য এ জাতীয় প্রশ্নসমূহ এক সপ্তাহ পূর্বে মাদরাসার দফতরে পৌঁছাতেহবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি শুরা কিংবা আমেলার সদস্য না থাকেন তবে, মুহতামিম সাহেব জবাব দিবেন। যদি প্রশ্নের উত্তরদানের জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়, সময় দিতে হবে।

স্মাঃ বিঃ-২৯।
শুরা ও আমেলার অধিবেশনের পূর্বে যে কোন সদস্য মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করতে পারবেন এবং যদিও এজেন্ডায় উল্লেখ না থাকে তবুও তার প্রতিবেদন বিবিধ আলোচনায় পেশ করতে পারবেন।

মজলিসে শুরার অধীনে মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ) নামে একটি মজলিস থাকবে। শুরার পক্ষ হতে মজলিসে আমেলায় ৩০-৩১দফায় উল্লেখিত দায়িত্বসমূহ থাকবে। অবশ্য এ মজলিস, মজলিসে শুরার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

ক) এ পরিষদে মুতাওয়াল্লীসহ ১৫জন সদস্য থাকবেন। মুহতামিম, নায়েবে মুহতামিম ও নাজেমেতা’লীমাত পদাধিকার বলে এই পরিষদের সদস্য থাকবে। মাদরাসার শিক্ষকগণের মধ্যে প্রতিনিধি স্বরুপ তাদের মনোনীত একজন সদস্য থাকবেন। বাকী ১০জন মজলিসে শুরা কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

খ) মাদরাসার মুহতামিম পদাধিকার বলে মজলিসে আমেলার সম্পাদক থাকবেন। আমেলার সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি এই পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

গ) প্রতি তিন বৎসর পর মজলিসে শুরা কর্তৃক মজলিসে আমেলা তথা কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে। **

ঘ) মুহতামিম সাহেবের অনুপস্থিতিতে আমেলার সদস্যগণ যাকে সম্পাদকের দায়িত্বে মনোনীত করবেন তিনি অস্থায়ীভাবে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

মজলিসে শুরার পক্ষ হতে মজলিসে আমেলার নি¤œবর্ণিত এখতিয়ারসমূহ থাকবে ঃ-

*(ক) ৩৫,০০০/- (পয়ত্রিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত বেতন প্রাপ্ত শিক্ষক ও খাদেমের নিয়োগ, অপসারণ, পদোন্নতি, পদাবনতি, পরিবর্তন এবং বেতন কর্তন করার এখতিয়ার মজলিসে আমেলার থাকবে, যা প্রতি বছর ১০% হিসাবে বৃদ্ধি করা যাবে এবং ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার) টাকার উর্দ্ধের বেতন প্রাপ্ত শিক্ষক বা খাদেমদের নিয়োগ, অপসারণ, পদোন্নতি, পদাবনতি, বেতন কর্তন করার প্রয়োজন দেখা দিলে মজলিসে শুরা থেকে মঞ্জুরী লাভ করতে হবে।

খ) নতুন কোন পদ খোলার প্রয়োজন দেখা দিলে মজলিস শুরা হতে মঞ্জুরী লাভ করতে হবে।

গ) বার্ষিক বাজেটের খসড়া তৈরি করে মজলিসে শুরার অধিবেশনে পেশ করা এবং শুরার অনুমোদন মোতাবেক ব্যয় করা। যথাযথভাবে অর্থের যোগান না হলে বাজেটে বরাদ্ধকৃত অর্থ হতে কমিয়ে দেয়া।

ঘ) বৎসর শেষে মাদরাসার হিসাব (অর্থ, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি) চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ¦ারা অডিট করানো। তবে তার পূর্বে আমেলার মধ্য হতে পারদর্শী অনূর্ধ্ব তিন সদস্য বিশিষ্ট উপ-মজলিস তা নিরীক্ষা করবে।

ঙ) বাজেটে উল্লিখিত ব্যয়ের খাত ব্যতীত নতুন ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে মুহতামিম সাহেবের লিখিত সুপারিশের ভিত্তিতে খরচের মঞ্জুরী দেয়া। মজলিসে আমেলা সর্বোচ্চ ৩,০০০,০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকার মঞ্জুরী দিতে পারবে, যার প্রতি বছর ১০% হারে বৃদ্ধি করা যাবে।

চ) মুহতামিম সাহেবের ফয়সালার বিরুদ্ধে আপীল শ্রবণ করা এবং ফয়সালা করা।

ছ) মজলিসে আমেলার বিশেষ কোন দায়িত্ব এক বা একাধিক সদস্যের উপর ন্যস্ত করা।

জ) উল্লিখিত এখতিয়ারসমূহ ব্যতীত শুরার পক্ষ হতে যখন যে দায়িত্ব ও এখতিয়ার দেয়া হবে, তা বাস্তবায়ন করা মজলিসে আমেলার দায়িত্ব

ক) মজলিসে শুরার অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবলী বাস্তবায়িত করা এবং এ ব্যাপারে যে স্থলে শিক্ষক ও খাদেমের নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব বর্তাবে তাঁরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সে দিকে দৃষ্টি রাখা।

খ) পাঠ্য তালিকা মঞ্জুরী দান, শিক্ষা বিভাগসহ সকল বিভাগের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা। শিক্ষা পদ্ধতি যাচাই করা এবং মজলিসে ইলমীর সুপারিশসমূহ সহানুভ’তির সাথে বিবেচনা করা।

গ) প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপায় উদ্ভাবন করা এবং আয় বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

ঘ) মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার নিমিত্তে আইন প্রনয়ণ করার জন্য মজলিসে শুরার নিকট প্রস্তাব পেশ করা।

ঙ) মাদরাসার হিসাব-পত্র ও তহবিলের সংরক্ষণ করা।

চ) আয়-ব্যয়কে বাজেটের আওতায় রাখার চেষ্টা করা।

ছ) মাদরাসার ছাত্রগণের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকেফহাল হওয়া এবং সমাধানার্থে সংগত উপায় উদ্ভাবন করা।

ক) মজলিসে আমেলার সভা বৎসরে কমপক্ষে ৪টি অনুষ্ঠিত হতে হবে।

খ) স্বাভাবিক সভা ব্যতীত সভাপতি ও মুহতামিম প্রয়োজনবোধে জরুরী সভা আহবান করতে পারবেন।

গ) স্বাভাবিক সভার নোটিশ সভার তিন দিন পূর্বে পৌঁছাতে হবে।

ঘ) জরুরী সভার নোটিশ ২৪ ঘন্ট পূর্বে পৌঁছাতে হবে।

ঙ) মজলিসে আমেলার কোরাম অর্ধেকের বেশি সদস্যের উপস্থিতিতে পূর্ণ হবে।

চ) সভার কার্যবিবরণী ২৩-২৮ ধারায় বর্ণিত বিধি মোতাবেক হতে হবে।

ছ) মজলিসে আমেলার সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলী শুরার নিকটতম অধিবেশনে অনুমোদন লভের জন্য পেশ করতে হবে।

মাদরাসার সুষ্ঠু তা’লীমের অভ্যন্তরে ও প্রচলিত দাপ্তরিক কার্যাদি অনুমোদন দেয়ার লক্ষ্যে মজলিসে ইলমী নামে একটি মজলিস থাকবে। স্থায়ী শিক্ষকগণ মজলিসে সদস্য থাকবেন। মুহতামিম ও নায়েবে মুহতামিম যথাক্রমে এই মজলিসের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং মুহতামিমের অনুপস্থিতিতে নাজেমে তা’লিমাত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ক) এই মজলিসের দায়িত্ব হবে তা’লীম তারবিয়্যতের ব্যাপারে শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশ বাস্তবায়ন, কিতাব বন্টন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্রাবাসের শৃংখলা রক্ষার ব্যবস্থা করা।

খ) মজলিসে আমেলা কর্তৃক বার্ষিক সভা কিংবা অন্য কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তার ইন্তিজাম করা।

গ) ক’ উপ-ধারায় বর্ণিত বিষয়াবলীর জন্য শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক আইন রচনার সুপারিশ মজলিসে শুরায় পেশ করা।
শিক্ষাসহ অপরাপর যে সব বিষয়ে মুহতামিম সাহেব পরামর্শ কামনা করেন তাকে তদানুযায়ী পরামর্শ দেয়া। অভ্যন্তরীণ আইন শৃংখলা রক্ষা করা ও মাদরাসার যে কোন প্রকার প্রাপ্তির ব্যাপারে মুহতামিম সাহেবের সহযোগিতা করা।

ঘ) মজলিসে ইলমীর সভা শিক্ষা বৎসরের শুরু ও শেষ এবং সব ক’টি পরীক্ষার পূর্বে অবশ্যই অনুষ্ঠিত হতে হবে। এতদব্যতীত যে কোন সময় প্রয়োজন দেখা দিলে সভা আহবান করা যাবে।

ঙ) শিক্ষা বিষয়ক উন্নতির জন্য প্রতি মাসে মজলিসে ইলমী মাদরাসার সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি আলোচনা সভার আযোজন করবে।

চ) সভার নোটিশ একদিন পূর্বে শিক্ষকগণের বরাবর পৌঁছানো বাঞ্ছনীয়। বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে এক ঘন্টা পূর্বে নোটিশ দিয়াও মজলিসে ইলমীর সভা আহবান করা যাবে।

ছ) মজলিসে ইলমী মুহতামিম সাহেবকে পরামর্শ দিবে। কিন্তু কোন ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করা যাবে না বরং এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে মুহতামিম সাহেব তা মজলিসে আমেলায় পেশ করবেন। মজলিসে আমেলা যদি একে অযথা মুহতামিম এর উপর চাপ সৃষ্টির অপপ্রয়াস বলে বিবেচনা করে তা হলে, মজলিসে ইলমীর প্রস্তাবাবলী খারিজ করে দিবে। অবশ্য মজলিসে শুরা ব্যতীত অন্য কোন পরিষদ কোন মজলিসের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করতে পারবে না।

বিভিন্ন অধিবেশনসমূহের এজেন্ডা সংশ্লিষ্ট পরিষদের সম্পাদকই তৈরি করবেন। সভাপতি ও অন্য সকলের প্রস্তাবও এজেন্ডায় শামিল হবে । তবে শর্ত হ’ল এ জাতীয় প্রস্তাব অধিবেশনের কমপক্ষে ২দিন পূর্বে মাদরাসার দফতরে পৌঁছাতে হবে এবং মজলিসে শুরার এজেন্ডা আমেলার অধিবেশনে অনুমোদিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্মাঃ বিঃ-৩৭
মাদরাসার প্রকল্পাধীন বিভাগসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য নি¤েœাক্ত গুণাবলীর অধিকারী আলেমে দ্বীন মাদরাসার মুহতামিম ও নায়েবে মুহতামিম হবেন।

ক) দারুল উলূম দেওবন্দ অথবা উপমহাদেশের অথবা বেফাকভুক্ত প্রসিদ্ধ কোন কওমী মাদরাসা থেকে ১ম বিভাগে দাওরায়ে হাদীস পাশের সনদপ্রাপ্ত হতে হবে, তবে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে ২য় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

খ) আলেমে বা-আমল দরস ও তাদরীসের উপর কমপক্ষে ৩ বৎসরের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কোন শায়খে কামেলের সাথে সম্পর্ক থাকতে হবে।

গ) সততা, ন্যায় পরায়ণতা ও তাকওয়া পরহেজগারি ইত্যাদি গুণাবলী সম্পন্ন ও আমানাত দিয়ানতদারীর ব্যাপরে নির্ভরযোগ্য হওয়া।

ঘ) মাদরাসার আদর্শ ও উদ্দেশ্যে ও দারুল উলূম দেওবন্দের চিন্তা ধারার প্রতি অটল বিশ^াসী হওয়া।

ঙ) মাদরাসার খায়েরখাহ বা (হিতাকাক্সক্ষী) সৎ সাহসী ও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া।

চ) দূরদর্শী, উৎসাহী এবং মাদরাসার প্রকল্পাধীন বিভাগসমূহ সম্পর্কে পরিচালনার দক্ষতা সম্পন্ন হওয়া।

ছ) চারিত্রিক মাধুর্য, মিষ্টভাষী, সদালাপী, উদার ও মানবীয় মহান গুণাবলীর অধিকারী হওয়া।

জ) হিসাব পত্র সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ও প্রশাসনিক যোগ্যতার অধিকারী হওয়া।

স্মাঃ বিঃ-৩৮।
মুহতামিম মাদরাসার সকল বিভাগের প্রধান জিম্মাদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে তাকে মজলিসে শুরা ও আমেলার নিকট জবাবদিহি হতে হবে।

মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব সমূহ নি¤েœ বর্ণিত হলঃ

ক) মাদরাসার দলিল, জরুরী কাগজপত্র ও ফাইল সমূহ দফতরে ইহতিমামে যথানিয়মে সংরক্ষণ করা।

খ) মজলিসে আমেলা ও শিক্ষা উপদেষ্টা মজলিস কর্তৃক গৃহিত প্রস্তাবাবলী বাস্তবায়িত করা।

গ) নিয়মানুযায়ী মজলিসে শুরা, মজলিসে আমেলা ও শিক্ষা উপদেষ্টা মজলিসের নোটিশ সদস্যগণের নিকট প্রেরণ করা।

ঘ) মজলিসে ইলমীর সভায় সভাপতিত্ব করা।

ঙ) মজলিসে শুরা, মজলিসে আমেলা ও শিক্ষা উপদেষ্টা মজলিশে গৃহীত প্রস্তাবাবলী যথানিয়মে লিপিবদ্ধ করানো।

চ) মাদরাসার রশিদ বইসমূহ মুহতামিমের স্বাক্ষর দ্বারা চালু করা।

ছ) মাদরাসার মানি অর্ডার, ডিডি, টিটি, সাধারন ভিপি, রেজিষ্টার্ড, পে-অর্ডার, কুরিয়ার সার্ভিস, চিঠি- পত্র ও হাতে প্রদত্ত দান সমূহ গ্রহন করা এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত রশিদ দাতাদের বরাবর প্রেরণ করা।
জ) মাদরাসা সম্পর্কিত যে সব পত্র আসবে কিংবা দফতর হতে প্রেরণ করা হবে, উভয়বিধ পত্রে স্বাক্ষর করা এবং উভয়বিধ পত্রের জন্য
রেজিষ্টার বুক চালু করা ও গুরুত্বপূর্ণ পত্রাদির কপি সংরক্ষণ করা।

ঝ) যথা নিয়মে মাদরাসার অর্থের হিফাযত এবং মাদরাসার স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষণ করা।

ঞ) দৈনিক আয়-ব্যয় পরিদর্শন করে তহবিল মিলানো এবং ক্যাশ বুকে দস্তখত করা।

ট) মুহতামিমের এখতিয়ারাধীন সাধারণ ও জরুরী ব্যয়ের মঞ্জুরী দেয়া এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত চেক চালু করা।

ঠ) মাদরাসার স্বার্থ রক্ষার্থে আদালতের আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে আমেলার সভা আহ্বান করে অনুমতি গ্রহণ করা। আদালতের আশ্রয় নেয়া এবং এতদসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ-পত্রে দস্তখত ও সংরক্ষণ করা।

ড) সকল বিভাগের জরুরী কাগজ পত্রে স্বাক্ষর করা।

ঢ) সকল বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ও খাদেমদের দ্বারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করানো।

ণ) সকল বিভাগের শিক্ষক ও খাদেমদের দরখাস্ত গ্রহণ করা এবং তার এখতিয়ারাধীন কার্যাবলীর নির্দেশ জারী করা। তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত বিষয়াবলী মজলিসে শুরা কিংবা আমেলার নিকটতম অধিবেশনে পেশ করা।

ত) ছাত্রদের পাঠ্য কিতাব, ছাত্রাবাস, খাদ্য, পোশাক ও অপরাপর প্রয়োজনীয় বস্ত্রসমূহে মাদরাসার কানুন, আর্থিক সামর্থ মোতাবেক ব্যবস্থা করা। এতিম ও বেওয়ারিশ ছাত্রের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা। তবে, আর্থিক বিষয়াদি মজলিসে আমেলা কর্তৃক অনুমোদিত হতেহবে।

থ) মাঝে মাঝে মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে রেকর্ড বুকে তার মন্তব্য লিপিবদ্ধ করা।

দ) আর্থিক বৎসর সমাপ্তির পর মাদরাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করে মজলিসে আমেলার মঞ্জুরীকৃত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট দ্বারা হিসাব অডিট করানো এবং মজলিসের মঞ্জুরি লাভের পর হিসাবসহ অডিট রিপোর্ট ও বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করা।

ধ) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ (অডিট) এর ব্যবস্থা করা। মাদরাসার বিস্তারিত অবস্তার উপর আলোকপাত করে সর্ব সাধারণের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করা।

মজলিসে শুরার পক্ষহতে মাদরাসার মুহতামিমের নি¤œবর্ণিত এখতিয়ার সমূহ থাকবে।

*১। ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার) টাকা গ্রেড পর্যন্ত (যা প্রতি বছর ১০% বৃদ্ধি করা যাবে।) যে কোন শিক্ষক বা খাদেমগণের পক্ষ হতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত নোটিশ দেয়ার পরেও যদি তিনি সচেতন হয়ে কর্তব্য পালনে যতœবান না হন, তাহলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে নিকটতম আমেলার অধিবেশনে পেশ করা।

২। যে কোন শিক্ষক কিংবা খাদেম দ্বারা মাদরাসার অথবা, যে বিভাগে তিনি নিয়োজিত রয়েছেন সে বিভাগের ক্ষতি সাধিত হলে কিংবা মারাতœক চারিত্রিক দোষ প্রমাণিত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মজলিসে আমেলার জরুরী অধিবেশন আহবান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে মুহতামিম আমেলার জরুরী অধিবেশন আহবান করতে পারবেন।

*৩। ১৫,০০০/- +১০% টাকার উর্ধ্ব মানের কোন শিক্ষক কিংবা খাদেমের পক্ষ হতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দুর্বলতা প্রকাশ পেলে অথবা, মাদরাসার আইন শৃংখলায় বিঘœ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনবার নোটিশ দেয়ার পরও সংশোধন না হলে নিকটতম আমেলার অধিবেশনে পেশ করা। আর যদি তার দ্বারা মাদরাসার কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের ক্ষতি সাধিত হয়, তবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা এবং মজলিসে আমেলার জরুরী অধিবেশন আহবান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে মুহতামিম আমেলার জরূরী অধিবেশন আহবান করতে পারবেন।

৪। ১,২ ও ৩ উপধারায় বর্ণিত বিষয়াবলীর মজলিসে আমেলার সভা আহবান করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আহুত সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অবশ্য তার পক্ষ হতে ছাফাই পেশ করার প্রয়োজন হলে অনুমতি সাপেক্ষে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

৫। যে সকল ছাত্র উস্তাদের অবাধ্য হয়, হুকুম অমান্য করে, মাদরাসার আইনের পাবন্দী করে না কিংবা সুন্নাতের বরখেলাফ চলে, তাদেরকে শাসন করার কিংবা সংশোধন করার যোগ্য না হলে মাদরাসা হতে বহিষ্কার করা।

৬। মাদরাসার সকল বিভাগের শিক্ষকগণ ও খাদেমদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য আইন প্রনয়ণ করে মজলিসে আমেলার মঞ্জুরীর পর তা প্রয়োগ করা এবং আইন-কানুনসমূহ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ জারী করা।

৭। মাদরাসার তহবিলসমূহ যথাঃ গোরাবা, সাধারণ, তা’মীর, কুতুবখানা ও প্রচার ইত্যাদির যথাযথভাবে হিফাজত করা এবং প্রত্যেক তহবিলের আয় ব্যয়ের হিসাব সুষ্ঠুভাবে রাখা।

*৮। বাজেট বহিভর্’ত অত্যাবশ্যকীয় খরচের প্রয়োজন দেখা দিলে কিংবা কোন বিশেষ পরিকল্পনায় আমেলার মঞ্জুরীকৃত অর্থে সংকুলান না হলে মজলিসে আমেলার জরুরী সভা আহবান করা। জরুরী সভা আহবান করা সম্ভবপর না হলে মুহতামিম নিজ অধিকার বলে ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) +১০% টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। অবশ্য মজলিসে আমেলার পরবর্তী সভায় উহার মঞ্জুরী গ্রহণ করতে হবে।

৯। দৈনিক খরচাদির জন্য মুহতামিম নিজের কাছে কিংবা নিজ নামে ব্যাংকে ১ (এক) সপ্তাহের খরচ পরিমাণ অর্থ জমা রাখতে পারবেন। তদুর্ধ্বের অর্থ মাদরাসার ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখবেন।

১০। মুহতামিম নিজের দায়িত্ব ও এখতিয়ার সমূহ হতে এক বা একাধিক দায়িত্ব নায়েবে মুহতামিম কিংবা অন্য কোন শিক্ষকের দায়িত্বে অর্পণ করতে পারবেন।

ক) মুহতামিম নিজের দায়িত্ব ও এখতিয়ার সমূহ হতে যা নায়েবে মুহতামিমকে দিবেন তাই তার দায়িত্ব ও এখতিয়ার বলে বিবেচিত হবে।

খ) নিয়োগ, পদচ্যুতি, পদোন্নতি , পদাবনতি, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ব্যতীত মুহতামিমের অনুপস্থিতি কালে অপরাপর দায়িত্ব ও এখতিযার সমূহ পালন করতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে, মজলিসে আমেলা কিংবা শুরা অন্য কাউকে যদি ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মনোনীত না করে।

মাদরাসার নাজেমে তা’লীমাত তথা শিক্ষা পরিচালকের নি¤েœ বর্ণিত গুণাবলীর অধিকারী হতে হবেঃ

ক) মাদরাসার আদর্শে বিশ^াসী ও তার পাবন্দ হতে হবে। দ্বীনি ইলমে সর্বক্ষেত্রে পারদর্শী ও শিক্ষাদানের ব্যাপারে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পরহেজগারী, দ্বীনদারী, তাকওয়া ও পবিত্রতার দিক দিয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ও সর্বজনমান্য হতে হবে। সুবিবেচক, সৎ সাহসী, শিষ্টাচার এবং চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত মাদরাসার হিতাকাক্ষী এবং শিক্ষা বিষয়ক আইন শৃংখলা রক্ষা করার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।

খ) নাজেমে তা’লীমাত পদাধিকার বলে মাদরাসরার শিক্ষা বিভাগের জিম্মাদার থাকবেন। তিনি মজলিসে ইলমীর সাহায্য ও সহযোগীতায় শিক্ষা বিভাগকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবেন। তিনি মজলিসে শুরা ও আমেলার কাছে জবাবদিহি থাকবেন।

মাদরাসার শিক্ষক ওখাদেমদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ছাড়াও সাধারণভাবে নি¤েœ বর্ণিত গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে।

ক) মাদরাসার আদর্শে বিশ^াসী ও তার পাবন্দ হতে হবে।

খ) ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক তথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাহের অনুসারী ও দ্বীনদারীর উজ্জল দৃষ্টান্ত হতে হবে।

গ) এমন সব আচার অনুষ্ঠান হতে নিজেকে বিরত রাখতে হবে যা উলামায়ে কেরামের শানের পরিপন্থী ও মাদরাসার সুখ্যাতির পক্ষে ক্ষতিকর।

ঘ) মাদরাসার কোন শিক্ষক কিংবা খাদেম অন্য স্থানে খেদমত অথবা আংশিক জিম্মাদারী নিতে পারবেন না। অবশ্য মাদরাসার কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা না থাকলে মজলিসে আমেলা এ ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারে।

ঙ) প্রয়োজনবোধে মুহতামিম কোন শিক্ষক কিংবা খাদেমকে অতিরিক্ত কোন দায়িত্ব সাময়িক বা অস্থায়ীভাবে অর্পণ করলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পালন করতে হবে।

চ) মাদরাসা প্রকল্পের যাবতীয় কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মুহতামিম যাকে যে দায়িত্ব অর্পন করবেন তা পালন করতে বাধ্য থাকবে।

যোগাযোগের ঠিকানা

বালিপাড়া ইন্দুরকানী পিরোজপুর

সামাজিক মাধ্যম

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত দারুল উলূম বালিপাড়া কওমী মাদ্রাসা | শুক্রবার | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | সকাল ১১:৩৩